ব্রেকিং নিউজ :
লাইভ নিউজ
বাংলা:
হিজরি:
English:
নিউ সাউথ বাংলা
আরও

ফোনে বেশি কথা বললে কি মস্তিষ্কে টিউমার হয়?

সাউথ বাংলা ডেস্ক জাতীয়
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ সকাল
ফোনে বেশি কথা বললে কি মস্তিষ্কে টিউমার হয়?

মোবাইলে বেশি কথা বললে কি আসলেই মস্তিষ্কে টিউমার হয়? জানুন বিজ্ঞান কী বলে

স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক: আমাদের সমাজে একটি ধারণা বেশ প্রচলিত যে, মোবাইলে বেশিক্ষণ কথা বললে বা ফোন মাথার কাছে রাখলে মস্তিষ্কে টিউমার বা ক্যান্সার হতে পারে। এই ভয়ে অনেকেই দীর্ঘসময় ফোনে কথা বলতে আতঙ্কিত বোধ করেন। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা কী বলছে? আসলেই কি মোবাইল ফোন ক্যান্সারের কারণ?

বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনের দুশ্চিন্তা ও বিভ্রান্তি দূর করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দেওয়া আসল তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন ও এক্স-রে সম্পূর্ণ আলাদা

মোবাইল ফোন থেকে যে রেডিয়েশন বা বিকিরণ বের হয়, তাকে বলা হয় নন-আয়োনাইজিং (Non-ionizing) রেডিয়েশন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যবহৃত এক্স-রে (X-ray) বা পারমাণবিক বিকিরণকে বলা হয় আয়োনাইজিং রেডিয়েশন, যা মানুষের শরীরের কোষের ডিএনএ (DNA) নষ্ট করে ক্যান্সার তৈরি করতে পারে। কিন্তু মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনের শক্তি এতটাই কম যে, এটি মানুষের শরীরের কোষ বা ডিএনএ-র কোনো ক্ষতি করতে পারে না। এটি কেবল সামান্য তাপ উৎপন্ন করতে পারে—যা দীর্ঘক্ষণ ফোন কানে ধরে রাখলে কান গরম হওয়ার মূল কারণ।

২. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও আন্তর্জাতিক গবেষণার রায়

বিশ্বের বড় বড় স্বাস্থ্য সংস্থা বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম বড় দুটি পর্যবেক্ষণ হলো:

ইন্টারফোন স্টাডি (Interphone Study): দীর্ঘমেয়াদি এই আন্তর্জাতিক গবেষণায় মোবাইল ব্যবহারের সাথে মস্তিষ্কের টিউমারের (যেমন গ্লিওমা বা মেনিনজিওমা) কোনো সরাসরি সম্পর্ক বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ডব্লিউএইচও (WHO) এর তালিকা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনকে ‘ক্যান্সার হতে পারে এমন সম্ভাব্য উপাদানের’ তালিকায় (Group 2B) রেখেছে ঠিকই, কিন্তু এর মানে এই নয় যে এটা ক্যান্সার তৈরি করেই। মজার বিষয় হলো—আমাদের প্রতিদিনের চেনা কফি বা আচারকেও ডব্লিউএইচও এই একই তালিকায় রেখেছে। সহজ কথায়, মোবাইল থেকে ক্যান্সার হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এখনো মেলেনি।

⚠️ টিউমার না হলেও অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে যেসব সমস্যা হতে পারে

সরাসরি ক্যান্সার বা টিউমার না হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বললে বা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে কিছু শারীরিক অস্বস্তি ও সমস্যা অবশ্যই হতে পারে:

কান ও মাথা ব্যথা: দীর্ঘক্ষণ ফোন কানের সাথে চেপে ধরে রাখলে কানের চারপাশের পেশিতে চাপ পড়ে এবং মাথা ঝিমঝিম করতে পারে।

অনিদ্রা ও মেজাজ খিটখিটে হওয়া: ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার করলে ফোনের স্ক্রিনের নীল আলো (Blue Light) চোখের ক্ষতি করে এবং ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ উৎপাদনে বাধা দেয়। ফলে রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না।

ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা: অদ্ভুত ভঙ্গিতে বা ঘাড় বাঁকা করে দীর্ঘক্ষণ ফোন ধরে কথা বললে ঘাড় ও মেরুদণ্ডে তীব্র ব্যথা হতে পারে।

💡 সুরক্ষায় আপনি যা করতে পারেন

যদি আপনার মনে সামান্যতম ভয় বা অস্বস্তি থাকে, তবে সচেতনতার জন্য সাধারণ কিছু অভ্যাস মেনে চলতে পারেন:

ইয়ারফোন ব্যবহার: দীর্ঘসময় কথা বলার প্রয়োজন হলে ইয়ারফোন, হেডফোন বা লাউডস্পিকার ব্যবহার করুন। এতে ফোনটি আপনার মাথা ও মগজ থেকে দূরে থাকবে।

ফোন দূরে রেখে ঘুমানো: রাতে ঘুমানোর সময় ফোনটি মাথার একদম কাছে বা বালিশের নিচে না রেখে অন্তত কয়েক হাত দূরে রাখুন।

দুর্বল নেটওয়ার্কে কথা না বলা: ফোনে নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকলে (যখন সিগন্যাল বার কম থাকে) ফোন নিজের সংযোগ বজায় রাখতে সবচেয়ে বেশি রেডিয়েশন ছড়ায়। তাই নেটওয়ার্ক ভালো থাকলে লম্বা আলাপ করুন।

মূল কথা: ফোনে বেশি কথা বললে মস্তিষ্কে টিউমার বা ক্যান্সার হওয়ার কোনো প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাই এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবনের জন্য যেকোনো প্রযুক্তিরই অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

স্বাস্থ্য সচেতনতা, নিত্যদিনের ফিটনেস টিপস ও বিজ্ঞানের সব রোমাঞ্চকর খবরের আপডেট সবার আগে পেতে নিউজ সাউথ বাংলা-এর সাথেই থাকুন।