কুমিল্লার দেবিদ্বারে দিনমজুর শফিকুল ইসলাম হত্যা এবং ৫ বছরের শিশু ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী। ভূমিহীন সংগঠন ও স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে এই কঠোর দাবি জানানো হয়।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় দেবিদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউমার্কেট স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে এসে মানববন্ধনে সমবেত হয়।
মানববন্ধনে নিহতের ৯ বছরের শিশুসন্তান সাদিয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—
‘নিশাদ ও লিমন ঘর থেকে আমার আব্বুকে ডেকে নিয়ে মেরে ফেলেছে। ওইদিন কোনো ঝগড়া ছিল না। আমি ও আমার ছোটভাই সামিউল জানালা দিয়ে দেখছিলাম, আব্বুকে মারতে নিষেধ করেছিলাম। আমার আব্বুকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম, তবুও তারা আব্বুকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার আব্বুর হত্যাকারীদের বিচার চাই, তাঁদের ফাঁসি চাই।’
শিশুর এই কান্নাভেজা কথাগুলো উপস্থিত সবার চোখেই পানি এনে দেয়।
নিহতের ১৭ বছর বয়সী ছেলে ইমন আহমেদ জানান, তার বাবার হত্যার বিচার চেয়ে থানায় গেলে শুরুতে পুলিশ সাক্ষী নিয়ে আসতে বলে। পরবর্তীতে মামলা নেওয়া হলেও এখনো মামলার ২ নম্বর আসামি নিশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফলে আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে।
নিহতের স্ত্রী নার্গিস আক্তার আকুতি জানিয়ে বলেন, স্বামীর জীবন ভিক্ষা চেয়েও তিনি বাঁচাতে পারেননি। চোখের সামনে স্বামীকে পিটিয়ে, কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হলেও পুলিশ উল্টো সাক্ষী চাইছে। আয়ক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অবুঝ সন্তানদের নিয়ে এখন দিশেহারা পুরো পরিবার।
গত ১ অক্টোবর উপজেলার বারুর গ্রামে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে লিমন, তার ভাই নজরুল ইসলাম এবং নজরুলের ছেলে নিশাদ মিলে প্রকাশ্যে দিনমজুর শফিকুল ইসলামকে হত্যা করে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ লিমন ও নজরুলকে গ্রেপ্তার করলেও মূল পলাতক আসামি নিশাদ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অপরদিকে, গত ৫ অক্টোবর উপজেলার একটি গ্রামে ৫ বছরের এক শিশুকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাজহারুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তবে সেই অভিযুক্ত আসামিও এখনো অধরা।
ভূমিহীন নেতা আব্দুল ওয়াদুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পরেশ কর। তিনি বলেন, দেবিদ্বারে একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার মতো অপরাধ বাড়ছে। আইনি প্রয়োগ দুর্বল হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিচ্ছে। তিনি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হয়ে সব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ভূমিহীন নেতা লিল মিয়া, তজু মিয়া, রমিজ উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সামগ্রিক বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে দুই এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূল পলাতক আসামি নিশাদ এবং শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযুক্ত মাজহারুলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
📰 প্রতিটি অপরাধের সঠিক তথ্য, আপডেট ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন আমাদের চ্যানেলে।
‘নিউ সাউথ বাংলা’—এর সাথেই থাকুন।