ইয়াবা নিয়ে এবার সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাত্র এক টাকার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধে লাল বা গোলাপি রঙের প্রলেপ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইয়াবার আদলের ট্যাবলেট। পরে এসব ওষুধকে আসল ইয়াবা বলে মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।
এতে একদিকে যেমন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন মাদকসেবীরা, অন্যদিকে অজানা ওষুধ সেবনের কারণে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহীর আইডি বাগানপাড়া রেললাইন এলাকা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা চলছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে বিভিন্ন ধরনের মাদক কেনাবেচা হয় বলেও দাবি তাদের। মাদকসেবীদের আনাগোনাও রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ ছাড়া নগরীর চন্দ্রিমা থানার বারো রাস্তা, বুধপাড়া, কোট ঢালান, গুড়িপাড়া, রাজশাহী নিউমার্কেট ও হরিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কৌশলে ইয়াবা এবং ইয়াবার আদলে তৈরি ওষুধ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকায় প্রকৃত মাদকের পাশাপাশি রঙ করা ‘মায়া বড়ি’ ও ডুরালাক্স ট্যাবলেটও ইয়াবার আদলে বিক্রি করা হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে মাদক পাওয়ার আশায় অনেক তরুণ সেখানে যাচ্ছেন বলেও জানান তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিছু ট্যাবলেটের গায়ে লাল বা গোলাপি রঙ লাগিয়ে ইয়াবার মতো চেহারা দেওয়া হচ্ছে। পরে এসব ট্যাবলেট প্রকৃত ইয়াবা হিসেবে মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।
এক মাদকসেবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘন ঘন অভিযানের কারণে অনেক বিক্রেতা এখন সরাসরি ইয়াবা বিক্রি করছে না। তার কাছ থেকে প্রতি পিস ২৮০ টাকা করে দুই পিস ‘মাল’ নেওয়া হয়েছিল। পরে সেবনের পর তিনি বুঝতে পারেন, সেগুলো ইয়াবা নয়, ওষুধ। ওই ওষুধ সেবনের পর তার পায়খানার বেগ বেড়ে যায়।
আরেক মাদকসেবীর ভাষ্য, ইয়াবার মতো দেখতে করে এসব ট্যাবলেট বিক্রি করা হচ্ছে। তার দাবি, ‘মায়া বড়ি’ রঙ করে ইয়াবার আদলে বাজারজাত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, শুধু ইয়াবা নয়, সব ধরনের মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে মাদক বিক্রির কয়েকটি আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং সেখান থেকে অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
তবে মায়া বড়ি ও ডুরালাক্স ট্যাবলেট ইয়াবার আদলে রঙ করে বিক্রির বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
অজানা ওষুধকে মাদক হিসেবে বিক্রি করার এমন অভিযোগ ভোক্তাদের জন্য নতুন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিউ সাউথ বাংলা এর সাথে থাকুন।