ব্রেকিং নিউজ :
লাইভ নিউজ
বাংলা:
হিজরি:
English:
নিউ সাউথ বাংলা
আরও

আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে খুন, ৭ দিন আগেই পরিকল্পনা

সাউথ বাংলা ডেস্ক জাতীয়
আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০২ দুপুর
আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে খুন, ৭ দিন আগেই পরিকল্পনা

আইফোনের লোভে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: ৭ দিন আগেই হয় অপ্রতিমকে খুনের পরিকল্পনা

একটি দামী আইফোনের লোভে প্রাণ হারাতে হলো ১৩ বছরের কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে। টিকটক ও ছবি তোলার সূত্রে গড়ে ওঠা পরিচয়ের পরিণতি যে এভাবে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে রূপ নেবে, তা ছিল কল্পনারও বাইরে। তদন্ত ও আদালতে দেওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছে এই ভয়ংকর তথ্য।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে পুলিশ তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার আড়ালের পরিকল্পনা আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মূল অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) ও অন্য দুই কিশোর জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৭ দিন আগেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ‌্যালয়ের মূল ফটকের সামনে বসে অপ্রতিমকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়।

প্রায় ৫-৬ মাস আগে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের পরিচয় হয়। অপ্রতিমের কাছে একটি দামী আইফোন দেখে তুহিন এবং অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত অন্য এক কিশোরের মনে লোভের জন্ম নেয়। সেই লোভ থেকেই তারা অপ্রতিমকে হত্যা করে ফোনটি বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগি করার চক্রান্ত করে।

যেভাবে ঘটানো হয় হত্যাকাণ্ড পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ময়নামতিতে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা করে তার টিকটক আইডি ও ফোন নম্বর নেয় তুহিন। পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কৌশলে তাকে লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চারজন একত্র হওয়ার পর অপ্রতিমের হাত থেকে আইফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়। ফোন ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তুহিন তাকে থাপ্পড় মারে এবং পাশে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয়।

ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হত্যার পর আসামিরা আলাদা হয়ে যায় এবং অপ্রতিমের ফোনটি তুহিনের কাছেই থাকে। ঘটনা গোপন রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে আসামিরা অপ্রতিমের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তাকে খোঁজার অভিনয় করতে থাকে। এমনকি আসামিরা ফেসবুকে অপ্রতিমের ছবি দিয়ে শোক বার্তা ও স্ট্যাটাসও পোস্ট করে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ মূল অভিযুক্ত তুহিনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে। পরে ঘটনা গোপন রাখার অভিযোগে তুহিনের বন্ধু সিয়ামকেও (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।

খবরের সবশেষ খবর ও বস্তুনিষ্ঠ আপডেট পেতে নিউ সাউথ বাংলা-এর সাথেই থাকুন।