বরিশাল ব্যুরো | নিউ সাউথ বাংলা
১৩ জুলাই, ২০২৬
বিগত ১৭ বছরের মতো দলীয় নেতাকর্মীদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, "দলের ভেতরে ছোটখাটো মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তার জন্য যেন দীর্ঘদিনের লড়াই-সংগ্রামের ঐক্য নষ্ট না হয়। ঐক্য থাকলে ফ্যাসিবাদের দোসর বা কোনো গুপ্তচর সুবিধা করতে পারবে না; ঐক্যে ফাটল ধরলেই তারা সুযোগ নেবে।"
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিগত ১৭ বছরের চরম নির্যাতনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, "গুম, খুন ও অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েও আপনারা নিজের পরিবারের চেয়ে দলকে বেশি সময় দিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছেন। তখন যদি সবাই সবার পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেন, তবে এখন কেন পারবেন না?" তিনি সতর্ক করে বলেন, দল গোছানোর ক্ষেত্রে ‘হাইব্রিড’ এবং ‘গুপ্তচরদের’ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, তারা যেন কোনোভাবেই নেতৃত্বে আসতে না পারে।
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, "আমরা অবশ্যই স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেব। বর্ষার পর আলোচনা করে এর সময়সূচি ঠিক করা হবে। তবে তার আগে আপনাদের তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হবে। আপনারা নিজেরা বসে ঠিক করবেন কে নির্বাচন করবেন আর কে দল চালাবেন।" তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তৃণমূলের শক্তির ওপর ভর করেই বিএনপি আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে।
আসন্ন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আগামী কয়েকদিন পর হিন্দুদের বড় অনুষ্ঠান। যেকোনো মূল্যে এই ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে হবে। কেউ যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ফায়দা নেওয়ার সুযোগ না পায়, সেদিকে নেতাকর্মীদের কড়া নজর রাখতে হবে।"
উন্নয়নের নামে লুটপাটের খতিয়ান:
বক্তব্যের শুরুতে বিগত সরকারের ১৭ বছরের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, "গত ১৭ বছরে শুধু মেগা প্রজেক্টের নামে পকেটের উন্নয়ন হয়েছে। ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতু নির্মাণে যেখানে খরচ হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকা, সেখানে আমাদের পদ্মা সেতুতে তারা খরচ দেখিয়েছে ৫৪ হাজার কোটি টাকা! শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশ থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে।"
উন্নয়নের প্রকৃত সংজ্ঞা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "শুধু বড় বড় ফ্লাইওভার করাই উন্নয়ন নয়। আমরা উপজেলার ৫১ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করছি। এছাড়া শিশুদের চিকিৎসায় সারাদেশে ১,০০০টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল করা হবে।" বিগত সরকারের আমলে দেশের শিক্ষা ও ব্যাংকিং খাত সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষিত যুবকরা আজ সবচেয়ে বেশি বেকার, কারণ শিক্ষায় কোনো গুণগত মান রাখা হয়নি।
চরম ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দায়িত্ব নেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই রোজা শুরু হয়েছিল, কিন্তু আমরা জিনিসপত্রের দাম বাড়তে দিইনি। এরপর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় আমাদের অতিরিক্ত ২৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। একটি পরিবারকে যেভাবে সবাই মিলে গোছাতে হয়, দেশকেও আমাদের সেভাবে গড়ে তুলতে হবে।"
জাতীয় রাজনীতির সব তাজা, গুরুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ খবর সবার আগে পেতে ‘নিউ সাউথ বাংলা’র সাথেই থাকুন।