গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দীর্ঘ চার মাস পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আয়োজনটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বৃহস্পতিবারের (২ জুলাই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে খামেনির জানাজা ও মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খামেনির এই রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানটি মোট ছয় দিন ধরে প্রতিবেশী ইরাকসহ মোট পাঁচটি শহরে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। সূচি অনুযায়ী:
শনিবার (৪ জুলাই): তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা চত্বরে প্রথম জানাজা ও শ্রদ্ধা অনুষ্ঠান।
সোমবার (৬ জুলাই): তেহরানের প্রধান সড়কগুলোতে খামেনির মরদেহ নিয়ে বিশাল শোক মিছিল।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই): ইরানের পবিত্র শহর কোম-এ মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে।
পরবর্তী ধাপ: এরপর শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে খামেনির মরদেহ নিয়ে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই): খামেনির মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে তার নিজ শহর মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজারে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই জানাজায় প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে, যার কারণে পুরো দেশজুড়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
এই ঐতিহাসিক বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের ঊর্ধ্বতন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা এবং ৯০টি দেশের শীর্ষ ধর্মীয় নেতারা ইরানে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এই রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং বিশ্বরাজনীতির এমন সব ব্রেকিং খবরের তাৎক্ষণিক ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আপডেট পেতে 'নিউ সাউথ বাংলা'-এর সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।