ব্রেকিং নিউজ :
লাইভ নিউজ
বাংলা:
হিজরি:
English:
নিউ সাউথ বাংলা
জাতীয়

দু’জন মানুষের স্বপ্নে কি সত্যিই যোগাযোগ সম্ভব? যা বলছেন বিজ্ঞানীর

নিজস্ব প্রতিবেদন জাতীয়
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ সকাল
দু’জন মানুষের স্বপ্নে কি সত্যিই যোগাযোগ সম্ভব? যা বলছেন বিজ্ঞানীর

একই রাতে দুজন মানুষের একই স্বপ্ন দেখা কি সম্ভব? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন আবিষ্কার!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: একই রাতে দুই ব্যক্তি একই ধরনের স্বপ্ন দেখছেন—এমন গল্প আমরা প্রায়ই বন্ধু, স্বামী-স্ত্রী কিংবা কাছের আত্মীয়দের মুখে শুনে থাকি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন মানুষের স্বপ্ন কি সত্যিই অন্য মানুষের স্বপ্নের সাথে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে? নাকি এটি কেবলই এক কাকতালীয় ঘটনা?

বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান কী বলছে? বিজ্ঞানীদের মতে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা নিশ্চিত করে যে, মানুষ ঘুমের মধ্যে সরাসরি স্বপ্নের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। মনোবিজ্ঞানীদের ধারণা, কাছের মানুষদের মধ্যে গভীর মানসিক সংযোগ, একই ধরনের জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা, আবেগ কিংবা দৈনন্দিন নানা আলোচনার কারণে অবচেতন মনে একই বিষয়ের প্রভাব পড়তে পারে। ফলে আলাদা ঘুমালেও তারা প্রায় একই রকম স্বপ্ন দেখতে পারেন।

বিশেষ করে ঘুমের REM (Rapid Eye Movement) বা 'রেম' পর্যায়ে মানুষের মস্তিষ্ক স্মৃতি, আবেগ ও কল্পনাকে প্রসেস করে স্বপ্ন তৈরি করে। এই কারণেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ বা কোনো দুশ্চিন্তার বিষয় স্বপ্নে বারবার ফিরে আসে।

লুসিড ড্রিমিং ও স্বপ্নের নতুন দিগন্ত: তবে স্বপ্নের মাধ্যমে যোগাযোগের সম্ভাবনাকে বিজ্ঞানীরা এখন আর পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ‘লুসিড ড্রিমিং’ (Lucid Dreaming) বা সচেতন স্বপ্ন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে। লুসিড ড্রিম হলো এমন এক অবস্থা, যেখানে মানুষ ঘুমের মধ্যেই বুঝতে পারে যে সে স্বপ্ন দেখছে এবং স্বপ্নের গল্প বা দৃশ্যপট সে নিজের মতো নিয়ন্ত্রণও করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দুই বা তার বেশি লুসিড ড্রিমারের ঘুমের 'রেম' পর্যায় যদি একই সময়ে ঘটে (যাকে সিঙ্ক্রোনাইজড রিম বলা হয়), তবে তাদের মধ্যে সংকেত পাঠানো এবং প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা সম্ভব হতে পারে।

রেমস্পেস-এর যুগান্তকারী পরীক্ষা: সম্প্রতি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্নায়ুপ্রযুক্তি স্টার্টআপ ‘রেমস্পেস’ (Remspace) এই বিষয়ে একটি অবিশ্বাস্য পরীক্ষা চালায়। তারা দুজন অভিজ্ঞ লুসিড ড্রিমারকে নিজ নিজ বাড়িতে রেখে, বিশেষ সেন্সরের সাহায্যে দূর থেকে তাদের ঘুম-চক্র পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রথম ব্যক্তি যখন লুসিড ড্রিমে প্রবেশ করেন, তখন সার্ভার থেকে একটি বিশেষ শব্দ ইয়ারবাডের মাধ্যমে তার কানে পাঠানো হয় এবং তিনি স্বপ্নের মধ্যেই শব্দটি উচ্চারণ করেন, যা সেন্সরে রেকর্ড হয়ে যায়। এর ঠিক আট মিনিট পর দ্বিতীয় ব্যক্তি যখন লুসিড ড্রিমে প্রবেশ করেন, তখন সার্ভার থেকে সেই রেকর্ড করা শব্দটি তার কাছে পাঠানো হয় এবং ঘুম থেকে উঠে তিনি শব্দটি সঠিকভাবে নিশ্চিত করেন। প্রযুক্তির সাহায্যে স্বপ্নে তথ্য আদান-প্রদানের এই ঘটনাকে অনেকেই এখন 'ড্রিম টেলিপ্যাথি' হিসেবে দেখছেন।

ভবিষ্যতের রহস্য: যদিও নিউরোসায়েন্স বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, বর্তমানে মানুষের মস্তিষ্ক থেকে সরাসরি (প্রযুক্তি ছাড়া) স্বপ্নে তথ্য আদান-প্রদানের কোনো প্রমাণিত পদ্ধতি নেই। তাই স্বপ্নে দেখা কথোপকথনকে বাস্তব যোগাযোগ ভাবার সুযোগ এখনও কম। তবে বিজ্ঞান এখনও স্বপ্নের সব রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি, তাই ভবিষ্যতে হয়তো আরও বিস্ময়কর কোনো তথ্য আমাদের সামনে আসবে।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও রহস্যের এমন সব রোমাঞ্চকর খবরের আপডেট প্রতিনিয়ত পেতে ‘নিউ সাউথ বাংলা’-র সাথেই থাকুন। পোস্টটি ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে অন্যদেরও জানার সুযোগ করে দিন!