ব্রেকিং নিউজ :
লাইভ নিউজ
বাংলা:
হিজরি:
English:
নিউ সাউথ বাংলা
জাতীয়

ছাত্রীর বাড়িতে গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি লাশ, এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক জাতীয়
আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ০৫:৩৬ বিকাল
ছাত্রীর বাড়িতে গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি লাশ, এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রীর বাড়ি থেকে গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, স্বর্ণালংকার লুটের সন্দেহে দম্পতিসহ আটক ৩!

নিজস্ব প্রতিবেদক (নিউ সাউথ বাংলা): চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষকতার মতো পবিত্র পেশার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নিখোঁজ হওয়ার পর অবশেষে নিজের ছাত্রীর বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে মরিয়ম বেগম (৫৫) নামে এক দুর্ভাগ্যজনক গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি মরদেহ। এই রোমহর্ষক ঘটনাটি পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সদর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মরিয়ম বেগম নামোশংকরবাটি উজ্জ্বলপাড়া এলাকার মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী। তিনি বিভিন্ন বাসায় গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চালাতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সুমি খাতুনের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে মিথীলাকে নিয়মিত প্রাইভেট পড়াতে যেতেন মরিয়ম বেগম। গতকাল সোমবার (১৮ মে) সকালে পড়াতে গিয়ে এরপর আর তিনি নিজ বাড়িতে ফেরেননি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং সুমি খাতুনের বাড়ি থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের স্বামী মোসাদ্দেক হোসেন জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর শেষবার ফোনে কথা হয়। তখন মরিয়ম বলেছিলেন, "বাড়ি আসছি, এসে রান্না করব।" কিন্তু এরপর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মাথা ও ঠোঁটে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া কানের দুল ছেঁড়া অবস্থায় ছিল। প্রাথমিকভাবে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করছে পুলিশ।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত সুমি খাতুনের বিরুদ্ধে আগেও কয়েকজন নারীকে জুসের সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। এলাকাবাসীর ধারণা, মরিয়ম বেগমের শরীরের স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে শ্বাসরোধ ও আঘাত করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সুমি খাতুন, তার স্বামী রুবেল এবং স্থানীয় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী দীপক চন্দ্রকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন।

দেশের এমন সব চাঞ্চল্যকর অপরাধের ভেতরের খবর এবং সর্বশেষ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিখুঁত আপডেট সবার আগে পেতে ‘নিউ সাউথ বাংলা’র সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।