ব্রেকিং নিউজ :
লাইভ নিউজ
বাংলা:
হিজরি:
English:
নিউ সাউথ বাংলা
জাতীয়

মাথা উঁচু করে দ্রুত দেশে ফিরব’: আনন্দবাজারকে শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক জাতীয়
আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ০৫:৩৪ বিকাল
মাথা উঁচু করে দ্রুত দেশে ফিরব’: আনন্দবাজারকে শেখ হাসিনা

‘মাথা উঁচু করেই দ্রুত বাংলাদেশে ফিরব, নীরবে চলছে প্রস্তুতি’: আনন্দবাজারকে শেখ হাসিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক (নিউ সাউথ বাংলা): বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিএনপি সরকার গঠনের পর দিল্লির সাথে ঢাকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন ইনিংস শুরু হয়েছে। তবে এর মাঝেই ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের প্রত্যাবর্তন এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে মাথা উঁচু করেই তিনি দ্রুত বাংলাদেশের মাটিতে ফিরবেন এবং এর জন্য নীরবে প্রস্তুতি চলছে।

গত মাসে নতুন দিল্লির সফরে গিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের আর্জি জানালেও, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর—হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে (PMO) এই মুহূর্তে কোনো চিন্তাভাবনা নেই।

ঠিক ৪৫ বছর আগে, ১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরেছিলেন শেখ হাসিনা। সেই স্মৃতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, "আমাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমার দলকে ধ্বংস করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু থামানো যায়নি। সৃষ্টিকর্তা যেহেতু বাঁচিয়ে রেখেছেন, আমি দ্রুতই বাংলাদেশের মাটিতে ফিরব। মাথা উঁচু করে, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানোর গর্ব নিয়েই ফিরব।"

আওয়ামী লীগের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বা বর্তমান কোণঠাসা অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, "বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করার পরেও তৎকালীন শাসক গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার সব চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি। যাঁরা আমাদের শেষ ভাবছেন, তাঁদের ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখতে বলব। আমাদের কোটি কোটি সমর্থক দেশেই আছেন। বর্তমান সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের নেতা-কর্মীরা সরব। আওয়ামী লীগ মানুষের আবেগে রয়েছে, তাই আমাদের ফিরে আসা অনিবার্য—শুধু সময়ের ব্যাপার।"

দলের বহু নেতা-কর্মী এই মুহূর্তে কলকাতায় বা দেশের বাইরে আশ্রয় নেওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা জানান, কেউ স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেননি। ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রাণে বাঁচতে তাঁরা বাধ্য হয়েছেন। ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা এবং দেড় লাখের বেশি কর্মীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের বাইরে থাকা নেতারা বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে বাংলাদেশের প্রকৃত পরিস্থিতি ও আইনের শাসনের অভাব তুলে ধরছেন। পরিবেশ তৈরি হলেই তাঁরা দেশে ফিরবেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা 'ভারত-তোষণ'-এর অভিযোগের জবাবে শেখ হাসিনা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের বিরোধীরা সর্বদাই অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ নাকি ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকার বা আগের অন্তর্বর্তী সরকার এখনও পর্যন্ত একটিও দেশবিরোধী চুক্তি সামনে হাজির করতে পারেনি। এতেই তাদের মিথ্যাচার প্রমাণিত হয়।" তিনি তাঁর সরকারের সময়কালের গঙ্গা পানি চুক্তি, সমুদ্রসীমা জয়, ছিটমহল সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের উদাহরণ দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, "এর মধ্যে কোনটা অন্য দেশের তাঁবেদারি, বিএনপি তা স্পষ্ট বলুক। বিদেশনীতির ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সর্বদাই দেশের জনগণের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে।"

সীমান্তের ওপারসহ দেশ-বিদেশের সব এক্সক্লুসিভ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও সত্য খবরের আপডেট সবার আগে পেতে ‘নিউ সাউথ বাংলা’র সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।